নিজস্ব প্রতিনিধিঃ গাজার হাসপাতালে মঙ্গলবার রাতের অন্ধকারে ইজরায়েলের নারকীয় হত্যাযজ্ঞের জেরে প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে ৫০০ জন। এই ঘটনায় ইজরায়েল-হামাস একে ওপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ হেনেছে। এই মারাত্মক হামলাকে  “সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য” বলে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক। এই হামলায় দায়ীদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

তিনি বলেন, “গাজা শহরের আল আহলি হাসপাতালে  প্রাণঘাতী হামলায় শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন।   রোগী ভয়ানকভাবে হাসপাতালের রোগী, স্বাস্থ্যসেবা কর্মী ও যুদ্ধের জেরে হাসপাতালের আশেপাশে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলি এই তালিকায় রয়েছে। এই হামলা আবারও সবচেয়ে অরক্ষিত।  একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।” হাসপাতালগুলিতে এই ধরণের হামলা বন্ধ করতে বলেছেন তুর্ক।

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান আরও বলেছেন যে, “প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলিকে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে সহায়তা করতে হবে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে সুরক্ষিত করতে হবে। মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে হবে। “

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই মারাত্মক রকেট হামলায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এই ঘটনাকে “ভয়াবহ” আক্রমণ বলে অভিহিত করেছেন।তিনি বলেন, “আমার হৃদয় এই নিরীহ মানুষগুলির পরিবারের সাথে রয়েছে। হাসপাতাল এবং চিকিৎসাকর্মীরা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের অধীনে সুরক্ষিত।”

এই হামলার ঘটনায় ইতিমধ্যেই বিভিন্ন স্থানে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের তেহরানে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের দূতাবাসের বাইরে শত শত মানুষ বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি এই দিনটিকে”জনসাধারণের শোক” ঘোষণা করেছেন।  এই হামলার জন্য ইজরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) হাসপাতালে এই হামলাকে  ” নজিরবিহীন” বলে অভিহিত করেছে।  পাশাপাশি বলা হয়েছে গাজায় ১১৫টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা হয়েছে। হামাস পরিচালিত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে , বাস্তুহীন মানুষদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য হাসপাতালের প্রাঙ্গণে ইজরায়েলি বিমান হামলায় কমপক্ষে ২০০ জন নিহত হয়েছে।