নিজস্ব প্রতিনিধি: কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে ঘরে-বাইরে তীব্র সমালোচনার মুখে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার। কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে বাংলাদেশজুড়ে চলা হিংসার ঘটনা নিয়ে আগেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল রাষ্ট্রপুঞ্জ। এবার একই পথে হাঁটল ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সংগঠনের বিদেশ বিষয়ক প্রধান জোসেফ বোরেল কোটা আন্দোলনে দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সেই সঙ্গে কোটা আন্দোলন ঘিরে যে হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে তার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তও দাবি করেছেন তিনি।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছিল বাংলাদেশ। ১৫ জুলাই থেকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ-র‍্যাব এবং আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্র লীগের ক্যাডারদের সংঘর্ষে উত্তাল হয়ে উঠেছিল গোটা দেশ। বেসরকারি মতে, ওই সংঘর্ষে ২০০-র বেশি প্রাণ ঝরেছে। গত ১৯ জুলাই মধ্যরাতেই দেশ জুড়ে কার্ফু জারি করেছিল শেখ হাসিনার সরকার। সেই সঙ্গে অশান্তি পাকানোদের দেখা মাত্র গুলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই সঙ্গে দেশ জুড়ে মোতায়েন করা হয়েছিল সেনা।

এবার বাংলাদেশ জুড়ে কোটা আন্দোলনের সংহিংসতা নিয়ে সরব হল ইউরোপীয় ইউনিয়ন। মঙ্গলবার সংস্থার বিদেশ বিষয়ক শাখার ওয়েবসাইটে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে জোসেফ বোরেলের বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। সেই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২৭ জুলাই (শনিবার) লাওসে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোটের (আসিয়ান) আঞ্চলিক ফোরামের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি তথা প্রাক্তন বিদেশ মন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের কাছে দেখামাত্র গুলির নির্দেশ ও আইনবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সংগঠিত করা নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছি।’

বাংলাদেশের পরিস্থিতির উপরে গভীর নজর রাখছেন বলে জানিয়ে বোরেল বলেছেন, ‘বাংলাদেশে হাজারো মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁরা যেন যথাযথ আইনি সুবিধা পান, তাও নিশ্চিত করতে হবে। চলমান সঙ্কটের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তার উপরে গভীরভাবে নজর রাখছেন তাঁরা।’