নিজস্ব প্রতিনিধি: ক্রমশ কেন্দ্রের বিমাতৃসুলভ আচরণ দিনকে দিন আরও প্রকট হয়ে উঠছে। বিভিন্ন খাতে অর্থ বকেয়া রাখার পাশাপাশি বঞ্চনাও করছে কেন্দ্র সরকার। বর্ধিত হারে পেনশনের জন্য ইতিমধ্যেই সাড়ে ১৭ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে কেন্দ্রের কাছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত ১০ হাজার জনকেও সেই পেনশন দিয়ে উঠতে পারেনি কেন্দ্র। সূত্রের খবর, বর্ধিত হারে পেনশনের হিসেব সংক্রান্ত বেশ কিছু গোলযোগ ইতিমধ্যেই উঠতে শুরু করেছে দফতরের অন্দরে। এমনকি তা দেওয়ার মতো যথেষ্ট টাকা কোষাগারে আছে কিনা সেই বিষয়েও সংশয় রয়েছে। এর আগে পেনশন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টকে অবমাননা করার মতো গুরুতর অভিযোগও উঠে এসেছে। তাই গোটা বিষয়টিতে স্বচ্ছতা না আসা অবধি এই প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা হবে বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে পিএফের আওতায় থাকা লক্ষ লক্ষ পেনশনভোগী ইতিমধ্যেই আবেদন জানিয়েছেন। বর্ধিত হারে পেনশন পেতে জমা করেছেন টাকাও। কিন্তু আচমকাই এই সংক্রান্ত সকল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বন্ধ করেছে এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন(EPFO)। এমনকি তাঁদের এই গা ছাড়া মনোভাবের কারণে যাঁরা দেরিতে পেনশন পাবেন, তাঁদের বাড়তি কোনও সুদ পর্যন্ত দেবে না কেন্দ্র। সম্প্রতি তথ্য জানার অধিকার আরটিআই আইনে করা একটি প্রশ্নের জবাবে একথা স্পষ্ট করে দিয়েছে ইপিএফও। অর্থাৎ যে বাড়তি লাভের কথা ভেবে বর্ধিত হারে পেনশনের দিকে ঝুঁকেছিলেন গ্রাহকরা, তার কোনও বিশেষত্বই আর রইল না।
২০২২ সালের নভেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী গ্রাহকদের নির্দিষ্ট অঙ্কের পেনশন পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা দিতে পারেনি ইপিএফও। এখন তাঁদের বক্তব্য, বর্ধিত হারে পেনশন দেওয়ার পরিস্থিতি নেই। প্রশাসনিক কাজকর্ম যেটুকু এগিয়েছে, তাতে এটুকুই জানানো সম্ভব। এই সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ বিষয় আর জানানো যাবে না। কারণ এই মুহূর্তে নির্দিষ্ট ‘ফর্মুলা’ মেনে পেনশন দিতে হলে তহবিলে বড়সড় ফাঁক তৈরি হবে। তাই কেন্দ্রের গাফিলতির ফল ভোগ করতে হচ্ছে পেনশনের আওতায় থাকা সাধারণ মানুষকে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে পেনশন দেওয়া হলে তার অঙ্ক বাড়তে বাধ্য কিন্তু এক্ষেত্রে কোনও নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ হচ্ছে না। কেন্দ্রীয় সরকারেরই চাহিদা অনুযায়ী লক্ষ লক্ষ টাকা তাঁদের কাছে জমা করতে হচ্ছে, সেখানে কেন সুদ পাবেন না প্রবীণরা? এর কোনও স্পষ্ট উত্তর মেলেনি কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে।