নিজস্ব প্রতিনিধি, তেলেঙ্গানা: সাত বছর বিয়ের পর গর্ভবতী হয়েছিলেন বাত্তি কীর্তি। ডাক্তার জানিয়েছিলেন যমজ সন্তানের মা হতে চলেছেন তিনি। সকলেই সেই শুভক্ষণের ওপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু ফোনে ডাক্তারের নির্দেশে একজন নার্স এমন এক ভুল করলেন যে সব আশা শেষ হয়ে গেল এক মুহূর্তে। মারা গিয়েছে কীর্তি’র যমজ সন্তান। পরিবার তাদের এই অপূরণীয় ক্ষতির জন্য ডাক্তারের অবহেলাকেই দায়ী করেছে।
কীর্তি তেলেঙ্গানার রাঙ্গারেডি জেলার এলিমিনেদু গ্রামের বাসিন্দা। পাঁচ মাস আগে ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন বা আইভিএফের মাধ্যমে তিনি গর্ভধারণ করেন। তিনি ডাঃ অনুশা রেড্ডির তত্ত্বাবধানে ছিলেন। এপ্রিল মাসে কীর্তি বিজয়া লক্ষ্মী হাসপাতালে চেক-আপের জন্য যান। সেখানে চিকিৎসক লক্ষ্য করেন যে কীর্তির জরায়ুমুখ আলগা হয়ে গিয়েছে। তিনি সেলাই করে মুখ বন্ধ করে দেন। পাশাপাশি বিশ্রামের পরামর্শ দিয়ে বাড়িতেও পাঠিয়ে দেন।
চেক-আপের প্রায় এক মাস পর রবিবার ভোর ৪টের দিকে কীর্তি প্রচণ্ড প্রসব বেদনা অনুভব করেন। তাঁকে দ্রুত বিজয়া লক্ষ্মী হাসপাতালেই নিয়ে যাওয়া হয়। সেই সময় ডাঃ অনুশা রেড্ডি হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন না। ভিডিও এবং অডিও কলের মাধ্যমে তিনি নার্সদের ইনজেকশন দেওয়া সহ বেশ কয়েকটি চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পাদনের নির্দেশ দেন। কিছু প্রতিবেদনে প্রকাশ, ব্যথা উপশমের জন্য যখন কীর্তিকে ইনজেকশন দেওয়া হয়, তখন তার সেলাই ফেটে যায়। সকাল সাড়ে দশটার দিকে কীর্তি’র গর্ভ থেকে যমজ সন্তানদের বের করা হয়। তাঁর প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছিল। ডাঃ রেড্ডি এসে জানান যে কীর্তি তাঁর দুই সন্তানকে হারিয়েছেন।
রাঙ্গারেড্ডির জেলা চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বি ভেঙ্কটেশ্বর রাও বলেছেন, কীর্তির জীবনের কোনও আশঙ্কা নেই। তিনি বলেন, “নার্সদের জটিল প্রক্রিয়াটি করতে দেওয়া চিকিৎসকের অত্যন্ত অপেশাদারী মনোভাবের পরিচয়। আমরা একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করব এবং পুলিশ ও উচ্চতর কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের প্রতিবেদন জমা দেব।”
কীর্তি’র পরিবার পুলিশে অভিযোগ দায়ের করে চিকিৎসার গাফলতিজনিত এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে যে স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তারা পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।