নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়া দিল্লি: কাশ্মীর, সন্ত্রাসবাদ, জল বণ্টন এবং বাণিজ্য সহ সকল অমীমাংসিত সমস্যা সমাধানের জন্য শান্তি আলোচনায় যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ করলেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সোমবার তিনি এই কথা জানিয়েছেন।

পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলায় পাকিস্তানের ভূমিকা এবং তার জবাবে ভারতের অপারেশন সিঁদুর অভিযান সহ ভারত-পাক সীমান্তে গোলাগুলি বন্ধ করতে সম্মত হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পরেই শরিফ এই মন্তব্য করেছেন। তিনি তাঁর চার-দেশীয় সফরের দ্বিতীয় পর্যায়ে তেহরানে এসে এই বিবৃতি দেন। শরিফের কথায়, “আমরা আলোচনার মাধ্যমে কাশ্মীর সমস্যা এবং জলবণ্টন সমস্যা সহ সকল বিরোধের সমাধান করতে চাই। বাণিজ্য ও সন্ত্রাসবাদ দমনের বিষয়ে আমরা আমাদের প্রতিবেশীর সঙ্গে কথা বলতেও প্রস্তুত।”

মে মাসের শুরুতে ভারতের সামরিক হামলার পর ইসলামাবাদ নয়াদিল্লির সঙ্গে আলোচনায় যোগদানের জন্য নতুন করে আগ্রহ প্রকাশ করল। তবে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা কেবল পাক-অধিকৃত কাশ্মীর এবং সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ থাকবে। আর কোনও বিষয়ে আলোচনায় ভারত আগ্রহী নয়।

ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে দেন যে ভারত যদি যুদ্ধের পথ বেছে নেয় তবে পাকিস্তানও তার জবাব দেবে। তাঁর কথায়, “ভারত যদি আক্রমণাত্মক থাকতেই পছন্দ করে, তাহলে আমরা আমাদের ভূখণ্ড রক্ষা করব। ঠিক যেমনটা আমরা কয়েকদিন আগে করেছি। কিন্তু যদি তারা আমার শান্তির প্রস্তাব গ্রহণ করে, তাহলে আমরা দেখাব যে আমরা সত্যিই শান্তি চাই।”

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে পাক মদতপুষ্ট লস্কর ই তৈবার ছায়া সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট ২৫ জন পর্যটক এবং এক স্থানীয় পনিচালককে হত্যা করে। এর দু’সপ্তাহ পরে ৭ মে ভারত পাকিস্তান এবং পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের সন্ত্রাসী শিবিরগুলিকে লক্ষ্য করে অপারেশন সিন্দুর অভিযান চালায়। ভারতের হামলার জবাবে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ভারতের দিকে ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।

১০ মে পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি করতে চেয়ে টেলিফোন করে। দুই দেশের সামরিক পর্যায়ের আলোচনার পর, উভয় দেশই যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য একটি সমঝোতায় পৌঁছায়।