নিজস্ব প্রতিনিধি, জয়পুর: ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশের পরে এবার রাজস্থানের পালা। মরু রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রী বেছে নিতে আজ মঙ্গলবার বৈঠকে বসছেন মরু রাজ্যের নব নির্বাচিত বিজেপি বিধায়করা। ওই বৈঠকে বিজেপির সর্বভারতীয় নেতৃত্বের তরফে পর্যবেক্ষক হিসাবে উপস্থিত থাকছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, সরোজ পাণ্ডে ও বিনোদ তাওড়ে। সোমবার রাতেই রাজ্যের দলীয় বিধায়কদের ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকার জন্য বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব নির্দেশ পাঠিয়েছে।

সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা ভোটে মরু রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল ঘটেছে। ১৯৯টি আসনের মধ্যে ১১৫টি আসনে জিতে কংগ্রেসকে হঠিয়ে রাজ্যে ক্ষমতা দখল করেছে বিজেপি। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে কাকে বসানো হবে তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে কালঘাম ছুটেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ ও জেপি নাড্ডাদের। বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব চেয়েছিলেন জয়পুরের রাজকুমারী দিয়া কুমারী, রাজ্যবর্ধন রাঠোর ও নাথ সম্প্রদায়ের নেতা বাবা বালকনাথের মধ্যে কারও একজনের হাতে রাজ্য শাসনের ভার তুলে দিতে। কিন্তু বেঁকে বসেছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা ঢোলপুরের মহারানি বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়া।

মুখ্যমন্ত্রীর দৌড় থেকে সরে দাঁড়াতে রাজি হননি তিনি। উল্টে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বকে খুল্লামখুল্লা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে গত কয়েকদিন ধরেই নিজের অনুগামীদের নিয়ে লাগাতার বৈঠক করে চলেছেন তিনি। রাজ্যপাট সামলানোর ভার তাঁর হাতে তুলে না দেওয়া হলে তিনি যে বিদ্রোহ ঘোষণা করতে পারেন, তেমন সম্ভাবনা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। কীভাবে ওই বিদ্রোহ সামাল দেওয়া যাবে, তা বুঝে উঠতে পারছেন না বিজেপি শীর্ষ নেতারা। ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশে যেভাবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীদের বাদ দিয়ে নতুন মুখকে কুর্সি সামলানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, মরু রাজ্যেও ওই পথে হাঁটতে চাইছেন মোদি-নাড্ডারা। কিন্তু কাজটা বড্ড কঠিন। বসুন্ধরাকে সামলাতে তাই রাজনাথ সিংহের মতো পোড়খাওয়া এবং প্রবীণ নেতাকে বিধায়কদলের বৈঠকে পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়েছে।