নিজস্ব প্রতিনিধি: ‘সব কা সাথ সব কা বিকাশ’ ট্যাগলাইন দিয়ে ভোটের ময়দানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ফেললেও ‘বিকাশ’ পুরোপুরি থমকে গিয়েছে মোদি জমানায়। বর্ধিত হারে পেনশনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন লক্ষ লক্ষ গ্রাহকরা। একাধিক খাতে অর্থ বকেয়া রয়ে যাচ্ছে। তবু মোদি সরকারের টনক নড়ছে না। সাম্প্রতিক রিপোর্টে যে ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে সেটিকে সাধারণ মানুষের জন্য ‘আচ্ছে দিন’ বলে চালিয়ে দেওয়া খুবই কঠিন।
কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, মূল্যবৃদ্ধি নাকি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কিন্তু তারপরেও মধ্যবিত্ত মানুষেরা ঝুঁকে পড়ছেন ঋণের বোঝায়। কারণ বাজারের সঙ্গে তাঁদের আয় পাল্লা দিয়ে বাড়ছে না। একইভাবে দেনার দায়ে ডুবে যাচ্ছে কৃষকরা। উপরন্তু বাড়তে থাকে সুদের পরিমাণ। আন্দোলনে দাবি ওঠে, কৃষিঋণ মকুব করতে হবে। কিন্তু সেই আর্তি দিল্লির দরবারের অন্দরমহলে পৌঁছয় না। সেখানে শুধুই কর্পোরেটের অবাধ যাতায়াত। সরকারি তথ্যই বলছে, প্রায় ১০ লক্ষ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক ঋণ মকুব হয়েছে এবং তার সিংহভাগই কর্পোরেট ঋণ। কৃষি এবং সমবায় ঋণ কিছু আছে বটে, তবে ১০ লক্ষ কোটি টাকার পাহাড়ে তা মাত্র কয়েকটি নুড়ির সমান। আর তার সবটাই প্রায় ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে।
আরও পড়ুনঃ বিয়ের মরশুমে আরও সস্তা হল সোনা, লক্ষ্মীবারে কলকাতায় হলুদ ধাতুর বাজারদর কত?
কৃষকদের বদলে শিল্পপতিরাই মোদি সরকারের প্রথম প্রায়োরিটি, তা আলাদা করে বলে দেওয়ার দরকার নেই। কিন্তু জানলে অবাক হবেন, শুধু কৃষক শ্রেণীর মানুষরা নয়, মূল্যবৃদ্ধির ভারে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ছোট ব্যবসায়ীরাও। কৃষকদের মতো তাঁদেরও বেহাল দশা। সমীক্ষা বলছে, গত ছ’বছরে প্রায় ৪১ হাজার সংস্থা নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণার জন্য আবেদন করেছে। গত ছ’মাসেই সেই সংখ্যাটা প্রায় ২ হাজার ২৩৬। সংসদে একথা জানিয়েছেন স্বয়ং কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী এবং গরিবের ত্রাস নির্মলা সীতারামন। তাঁর বক্তব্য, ২০১৮-১৯ থেকে চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঋণের ভারে মাথা নত করতে বাধ্য হয়েছে প্রায় ৪১ হাজার সংস্থা। অথচ কেন্দ্রের তরফে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে ১০ লক্ষ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক ঋণ মকুব করার কথা প্রচার করা হচ্ছে। দিনের শেষে লাভ হচ্ছে মোদি ঘনিষ্ঠ বড় শিল্পপতিদেরই। হয়তো এই ভাবেই গরিব মানুষকে ‘আচ্ছে দিন’-এর ঝলক দেখাচ্ছে মোদি সরকার।