নিজস্ব প্রতিনিধিঃ খলিস্তানি সন্ত্রাসী হরদীপ সিং নিজ্জার হত্যার ঘটনায় ভারতের মদতের অভিযোগ তুলেছিলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। কানাডার বিদেশমন্ত্রী মেলানিয়া জোলি ভারতের শীর্ষ কূটনীতিককে কানাডা থেকে বহিষ্কার করেছিল। এবার এই মর্মে মুখ খুলল ভারত। কানাডা সরকারের অভিযোগ অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন বলে দাবি ভারতের বিদেশ মন্ত্রক।

ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডে ভারতের কোন মদত নেই। তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই এই ধরণের অভিযোগ খলিস্তানি সন্ত্রাসবাদী এবং চরমপন্থীদের থেকে মনোযোগ সরাতেই তৈরি করা হচ্ছে।

বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি বলেন, ‘কানাডার প্রধানমন্ত্রী তাঁদের সংসদে দাঁড়িয়ে যে অভিযোগ করেছে তা আমরা দেখেছি। এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে। কানাডার বিদেশমন্ত্রীও যে মন্তব্য করেছেন, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’

বিদেশ মন্ত্রকের তরফে প্রকাশিত অফিসিয়াল বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এখানে আইনের ভূমিকা সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। কোনও তথ্য প্রমাণ ছাড়া এই ধরনের অভিযোগগুলি খালিস্তানি সন্ত্রাসবাদী এবং চরমপন্থীদের থেকে ফোকাস সরিয়ে নিতে তৈরি করা হচ্ছে। যাদের কানাডায় আশ্রয় দেওয়া হয়েছে এবং ভারতের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে যারা ক্রমাগত হুমকি দিয়ে চলেছে, তাদের থেকে নজর সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এই বিষয়ে কানাডিয়ান সরকারের নিষ্ক্রিয়তা উদ্বেগজনক। কানাডিয়ান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা প্রকাশ্যে এই ধরনের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছে যা গভীর উদ্বেগের বিষয়।’

কানাডিয়ান সরকারকে নিশানা করে বিদেশ মন্ত্রক বলছে, ‘কানাডায় খুন, মানব পাচার এবং সংগঠিত অপরাধ সহ বিভিন্ন বেআইনি কার্যকলাপ নতুন নয়। এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে ভারত সরকারকে যুক্ত করার প্রচেষ্টা আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। কানাডা সরকারকে ভারত-বিরোধী সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে দ্রুত এবং কার্যকরী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।’

প্রসঙ্গত, কানাডার সংসদে জাস্টিন ট্রুডো বলেন, ‘আমি একটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয়ে সংসদকে সচেতন করতে চাই। আমি বিরোধী দলের নেতাদের সরাসরি জানিয়েছি। কিন্তু, আমি এখন সব কানাডাবাসীকে বলতে চাই। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কানাডার নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সক্রিয়ভাবে কানাডিয়ান নাগরিক হরদীপ সিং নিজ্জর এবং ভারত সরকারের মধ্যে সম্ভাব্য সংযোগের অভিযোগের তদন্ত করছে। কানাডা এরটি আইন মান্যকারী দেশ। আমাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং আমাদের সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা আমাদেরই করতে হবে।’