নিজস্ব প্রতিনিধিঃ বিমান সেবিকা মানেই ত্বক হবে উজ্জ্বল । মেদহীন শরীরে যাত্রীদের সামনে সুবিধা- অসুবিধা কথা তারা জানতে চান । কিন্তু জানেন এই বিমান সেবিকাদের  পরিস্থিতি কতটা কঠিন? তাদের প্রতিদিন কত কঠিন পথ অতিক্রম করতে হয় ? সম্প্রতি এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে একথাই জানালেন এক  ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট বা বিমানবালা ।

 তিনি জানান,’ বিমান ভ্রমণের শুরুতে, ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টরা কেবল পুরুষ ছিলেন। বেশিরভাগই সমকামী । কিন্তু এখন বদলেছে সেই চিত্র । বর্তমানে বিশ্বের ৮০  শতাংশ ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট নারী। ১৪  থেকে ২৪  বছর বয়সী মেয়েরা এখন এই পদে কাজ করে থাকেন । তাদের দেখে বিমান যাত্রীরা মনে করেন  এয়ার হোস্টেসদের মাত্র তিনটি কাজ আছে – মেকআপ, যাত্রাপথ ঘোষণা এবং খাবার পরিবেশন।  আর এই সকল কাজের জন্য অনেক বেতন দেওয়া হয় । কিন্তু বিমান যাত্রীদের এই ভাবনাটা পুরোটাই ভুল ।‘

এই প্রসঙ্গ নিয়ে  ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট বলেন,’    আমাদের দীর্ঘ প্রশিক্ষণ এবং পরীক্ষা আছে। এতে পাসিং মার্ক ৯০ শতাংশ। আমরা একটা ভুল করলেই পুরো ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যায়। বিমানে ওঠার আগে বেশ কিছু জিনিস আমাদের মাথায় রাখতে হয় । প্রথমে, বিমানের মধ্যে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ওষুধ আছে কিনা । দ্বিতীয়, নিজেকে উপস্থাপনযোগ্য করে তোলা। যাতে চেহারা, চুল, হাটা- চলা সবকিছু ঠিক ঠাক থাকে । তৃতীয়, খাবার পরিবেশনের সময় নিজেকে যেন সুন্দর লাগে। ‘ সেইসঙ্গে তিনি জানান,’ আমাদের ওজন একটু বেড়ে গেলেই বিমানের মধ্যে আর উঠতে দেওয়া হয় না । কঠিন রুটিনের মধ্যে দিয়ে আমাদের শারীরিক চর্চা করতে হয়।‘ অন্যদিকে সম্প্রতি  মুম্বইয়ের একজন সিনিয়র এয়ার হোস্টেস নিজের এক অভিজ্ঞতার কথা সামনে এনেছেন। তিনি বলেন,’ আন্তর্জাতিক বিমানে প্রায়শই যাত্রীদের থেকে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি পেতে হয় । তাদের মনে হয় টিকিটের সঙ্গে এয়ার হোস্টেসরা ফ্রি। ‘ একথায় বলা যায়, বিমান সেবিকা হয়ে ওঠার পিছনে রয়েছে এক কঠিন পথ ।