নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: শেখ হাসিনা জমানায় ঢাকার সেনা নিবাসের বাড়ি থেকে উ‍ৎখাত করা হয়েছিল প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) রাতে গুলশানের বাড়িতে একান্ত বৈঠকের সময়ে ওই ঘটনার জন্য হাত জোড় করে ক্ষমা চেয়েছেন সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান। সেই সঙ্গে খালেদা চাইলে ফের সেনানিবাসে তাঁর জন্য বিশেষ বাড়ির বন্দোবস্থ করারও আশ্বাস দিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বৈঠকে উপস্থিত প্রাক্তন সেনা কর্তা ফজলে এলাহি আকবর বলেন, ‘প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ৪০ মিনিটের বৈঠকে সেনা প্রধান অনেক কথাই বলেছেন। সেই কথা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের জন্য নয়। তবে যেভাবে ১৪ বছর আগে সেনানিবাসের বাড়ি থেকে বিএনপি চেয়ারপার্সনকে উ‍ৎখাত করা হয়েছিল, তা তৎকালীন অনেক সেনা আধিকারিক মানতে পারেননি। ওই উচ্ছেদ কাণ্ডের হোতা ছিলেন প্রাক্তন সেনাপ্রধান মোহাম্মদ আবদুল মোবিন।’

খালেদা জিয়ার স্বামী প্রয়াত জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে দেশের সেনাপ্রধানের দায়িত্বে ছিলেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে ১৯৭২ সাল থেকেই সেনা আধিকারিক হিসাবে সেনানিবাসের শহিদ মইনুল রোডের বাড়িতে বসবাস করছিলেন তিনি। ১৯৮১ সালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাবাহিনীর একাধিক সদস্যর হাতে প্রাণ হারান জিয়া। আর ওই মর্মান্তিক ঘটনার পরে তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ টোকেন মূল্যে খালেদা জিয়াকে ২.৭২ একর সম্পত্তি বরাদ্দ করেন। তার মধ্যে ছিল সেনানিবাসের বাড়িটিও। দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে বসবাস করার পরে বাংলাদেশ হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর খালেদা জিয়াকে সেনানিবাসের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়। সেনানিবাসের বাড়ি ছেড়ে পরে গুলশানে ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দারের বাড়িতে ওঠেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। ওই বাড়িটির দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড।

সেনানিবাসের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার পরে গত ১৫ বছর সেনাকুঞ্জের মাটিতে পা রাখেননি খালেদা। তবে শেখ হাসিনার জমানার অবসানের পরে গত বছরের ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সেনাকুঞ্জে গিয়েছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। দেশে রাজনৈতিক পালাবদলের পরেই বিএনপি’র তরফ থেকে খালেদাকে সেনানিবাসের বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছিল। সূত্রের খবর, গতকাল বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) রাতে গুলশানের ফিরোজায় গিয়ে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেন সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান। ওই সময়েই শহিদ মইনুল রোডের বাড়ি থেকে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে উচ্ছেদের জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমা চান। সেনাপ্রধান বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতার ঘোষক ও প্রাক্তন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানের স্ত্রী হওয়া সত্বেও যেভাবে সেনানিবাস থেকে আপনাকে উচ্ছেদ করা হয়েছে, তার জন্য দুঃখিত। ত‍ৎকালীন সেনাপ্রধানের উচিত ছিল, আপনার পাশে দাঁড়ানো। কিন্তু সেই শিরদাঁড়া দেখাতে পারেননি তিনি। আপনি যদি চান, তাহলে ফের সেনানিবাসে ফিরতে পারেন। আমি আপনাকে যথাযোগ্য সম্মান দিয়ে সেনানিবাসে থাকার জায়গা করে দেব।’ জবাবে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খানিকটা স্মিতহাস্যে বলেন, ‘আমাকে যেভাবে বেইজ্জত করে সেনানিবাসের বাড়ি থেকে তাড়ানো হয়েছিল, তা ভুলতে পারিনি। তবে অতীতের কথা আর মনে রাখতে চাই না। এখন যেখানে আছি, ভালই আছি। সেনানিবাসে আর ফিরতে চাই না।’