নিজস্ব প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া: দেশ স্বাধীন হয়েছে ৫০ বছর হয়েছে। কিন্তু অবহেলা আর উদাসীনতার চিত্র একটুও বদলায়নি। বর্ষাকালে জলে ডুবে থাকে পুরো এলাকা। তখন চলাচলের একমাত্র ভরসা নৌকো। আর শুকনো মরসুমে হাঁটা ছাড়া কোনও পথ থাকে না। কেননা, ভ্যান কিংবা রিকশা চলার মতো রাস্তা নেই। প্রশাসনের কাছে একাধিকবার তদ্বির করা হয়েছে, অনুনয়-বিনয় করা হয়েছে কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের উদাসীনতায় ক্ষুব্ধ হয়ে নিজেদের উদ্যোগেই চাঁদা তুলে আড়াই কিলোমিটার রাস্তা বানিয়ে ফেললেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের পরমানন্দপুর, ষাটবাড়িয়া ও হরিপুর গ্রামের বাসিন্দারা। রবিবার হাওরের বুক চিরে বানিয়ে ফেলা নতুন রাস্তার উদ্বোধন হলো।

পরমানন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা আঙুর মিয়া সাংবাদিকদের জানান, ‘কয়েক যুগ ধরে রাস্তা বানানোর দাবি নিয়ে প্রশাসনের কাছে ধর্না দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাতে কোনও সুরাহা হয়নি। শেষ পর্যন্ত তিন গ্রামের বাসিন্দারা মিলে ঠিক করেন নিজেদের যাতায়াতের পথ নিজেরাই বানাবেন। পরমানন্দপুর ও ষাটবাড়িয়া গ্রামের মধ্যে রাস্তা বানানোর জন্য দুই গ্রামের ৪৭ কৃষক তাঁদের জমির একাংশ দান করেন। তার পরে রাস্তার মাটি ভরানোর জন্য গ্রামবাসীদের কাছ থেকে চাঁদা তোলা হয়। রাস্তা নির্মাণে সবাই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। আট লাখ টাকা চাঁদা ওঠে। সেই টাকা দিয়ে খনন যন্ত্র আনা হয়। শুধু চাঁদা দিয়েই দায় সারেননি গ্রামবাসীরা। রাস্তা তৈরির জন্য স্বেচ্ছাশ্রমও দিয়েছেন। ১০ ফুট চওড়া নতুন রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। কিছুটা হলেও সমস্যা মিটবে।’

এদিন গ্রামবাসীদের চাঁদা ও স্বেচ্ছাশ্রমে গড়ে ওঠা রাস্তার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন পাকশিমুল ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান কাউছার হোসেন। গ্রামবাসীদের উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘গ্রামবাসীরা যেভাবে রাস্তা তৈরি করেছেন, তা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। নতুন রাস্তার উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমার পক্ষে যতটা করা সম্ভব, তা করব।’ নতুন রাস্তা উদ্বোধন ঘিরে এদিন তিন গ্রামের বাসিন্দারাই উ‍ৎসবে মেতে উঠেছিলেন। গোটা রাস্তা বেলুন ও কাগজের নানা নকশা দিয়ে সাজিয়ে তুলেছিলেন।