নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্রে সামিল থাকার পুরস্কার হিসাবে রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার সংস্থাকে কার্যালয় খোলার অনুমতি দিয়েছিল মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার। ইতিমধ্যেই অভিযোগ উঠেছে, আমেরিকা-সহ বিদেশিদের হাতে বাংলাদেশের একাংশকে বিক্রি করে দিতে চাইছে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের পোষ্যভৃত্যদের নিয়ে গঠিত তদারকি সরকার। এবার ‘জঙ্গিদের মদতদাতা’ হিসাবে পরিচিত রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার সংস্থাকে কার্যালয় খুলতে দেওয়ার অনুমতির বিরুদ্ধে সুর চড়াল হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। আগামিকাল শুক্রবার (১১ জুলাই) জুমার নমাজ শেষে বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে সংগঠনটি।

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) মোল্লা ইউনূসের পৌরাহিত্যে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ঢাকায় রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনসংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকের খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। আর ওই খবর প্রকাশিত হতেই সুর চড়িয়েছে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম। সংগঠনের ঢাকা মহানগরের সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ হাবিব ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মামুনুল হক সকল ঈমানদার তদারকি সরকারের ওই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেছেন, ‘রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার সংস্থার কার্যালয় স্থাপন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ ও সার্বভৌমত্বে হুমকি। কোনও মতেই বিদেশি প্রভুদের সাদরে ডেকে এনে দেশের স্বাধীনতা নষ্ট করতে দেওয়া হবে না। দেশপ্রেমিক প্রতিটি বাংলাদেশি ইউনূস সরকারের এই সিদ্ধান্ত রুখে দিতে প্রয়োজনে বুকের রক্ত ঢেলে দেবে। আগামিকাল শুক্রবার জুমার নমাজ শেষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, গত বছরের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নামে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার সংস্থার প্রধান তথা মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ’র চর ভলকার টুর্ক। শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ না করলে বাংলাদেশ সেনাকে আর রাষ্ট্রপুঞ্জের শান্তিবাহিনীতে নেওয়া হবে না বলে হুমকিও দিয়েছিলেন তিনি। ওই হুমকির পরেই শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে হটাতে রাজাকারদের সঙ্গে হাত মেলান বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। শেখ হাসিনাকে উচ্ছেদের পরে তদারকি সরকারের প্রধান হিসাবে মুহাম্মদ ইউনূসকে বসানোর ক্ষেত্রেও বিশেষ ভূমিকা রেখেছিলেন টুর্ক।