নিজস্ব প্রতিনিধি: ঘটে গেল এক বিরলতম ঘটনা। একটি গোখরো সাপের পেটে ৩০টি সেলাই করলেন পশু চিকিৎসকেরা। সুস্থ হয়ে যাওয়ায় তাকে ফের পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়া হল। যার ফলে বেঁচে গেল প্রায় নাড়ি-ভুঁড়ি বের হয়ে যাওয়া একটি গোখরো সাপের প্রাণ। ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ি পশু হাসপাতালে। এরপর প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ইঞ্জেকশন ও অন্যান্য ওষুধ দিয়ে সাপটির প্রাণ বাঁচিয়ে নজির গড়লেন জলপাইগুড়ি পশু হাসপাতালে বিশিষ্ট চিকিৎসক। তাঁর এই কর্মকাণ্ডে উচ্ছ্বসিত বেশ উচ্ছ্বসিত পরিবেশ কর্মীরা।

গত শুক্রবার সকালে জলপাইগুড়ির শিরিশ তলা এলাকায় বিদ্যুৎ দফতরের পক্ষ থেকে রাস্তার পাশে বিদ্যুতের খুঁটি সরানোর কাজ চলছিল। সেই সময় শাবল দিয়ে খুঁটির গোড়া খুঁড়তে গিয়ে একটি বড়সড় আকারের গোখরো সাপের পেটে শাবলের খোঁচা লাগে। আর সঙ্গে-সঙ্গে পেট থেকে নাড়ি-ভুঁড়ি বাইরে বেরিয়ে চলে আসে। আর সাপটি যন্ত্রনায় ছটফট করতে থাকে। এরপর এলাকার মানুষ খবর দেন পরিবেশকর্মী বিশ্বজিৎ দত্ত চৌধুরীকে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন বিশ্বজিৎ। তিনি এসে সাপটিকে উদ্ধার করে জলপাইগুড়ি পশু হাসপাতালে নিয়ে যান। সাপটির করুণ পরিনতি দেখে দ্রুত এগিয়ে আসেন পশু চিকিৎসক। শুরু হয় চিকিৎসা। তার গা স্পিরিট দিয়ে পরিষ্কার করে শুরু হয় সেলাই করা। একে-একে ৩০টি সেলাই সাপটির পেটে করা হয়। এরপর প্রয়োজনীয় ঔষধ ও ইঞ্জেকশন প্রেসক্রাইব করে সাপটিকে ফের বিশ্বজিৎবাবুর হাতে তুলে দেন চিকিৎসক।

এই বিষয়ে পরিবেশকর্মী বিশ্বজিৎ দত্ত চৌধুরী জানান, ‘শুক্রবার সাপটির পেটে সেলাই করার পর আমাকে সাপটি দিয়ে দেওয়া হয়। এরপর আমি ওকে বাড়ি নিয়ে ডাক্তারবাবুর নির্দেশ মতো এন্টিবায়োটিক মলম ও ইঞ্জেকশন নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী দিতে থাকি। ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলে লক্ষ্য করি যে সাপটির ক্ষতস্থান শুকিয়ে গিয়েছে। এরপর আমি ফের চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার শারিরীক অবস্থার উন্নতির কথা জানাই, তখন তিনি বলেন এবার সাপটিকে ফের পরিবেশে ছাড়া যেতে পারে। এরপর আমি বনদফতরকে জানিয়ে সাপটিকে উদ্ধার হওয়া এলাকার কাছাকাছি ছেড়ে দিয়ে আসি’।