আন্তর্জাতিক ডেস্ক: শিল্পীর সামনেই তাঁর সাধের বাদ্যযন্ত্র জ্বালিয়ে দিল তালিবানরা। ঘটনাটি ঘটেছে পাকতিয়া প্রদেশে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল সেই দৃশ্য। ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে শিল্পী হাউ হাউ করে কাঁদছেন। যদিও তাঁর সেই কান্নায় মন গলেনি তালিবানদের। বাদ্যযন্ত্রে আগুন ধরিয়ে তারা রীতিমতো হর্ষোল্লাসে মেতে ওঠে।  

কাবুল দখলের পর তালিবানরা একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তার মধ্য অন্যতম গানবাজনার ওপর নিষেধাজ্ঞা। বিয়ে বাড়িতেও জলসা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। তালিবান সরকারের তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আফগানিস্তানের টিভি চ্যানেলে উপস্থাপক হিসেবে কোনও মহিলাকে নিয়োগ করা যাবে না। নাটক বা ধারাবাহিক তৈরি করতে হবে অভিনেত্রীহীন।

কাবুল দখলের পর তালিবানরা প্রথম দিকে স্কুল-কলেজ-সহ অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মহিলাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। পরবর্তীকালে তারা কিছুটা নরম হলেও জানিয়ে দেয়, মেয়েরা স্কুলে আসতে পারবে। তবে তাদের বোরখা পরে আসতে হবে। আর মেয়েদের স্কুল একমাত্র মহিলা শিক্ষিকারাই পাঠদান করতে পারবেন। তারপরেও মেয়েরা স্কুলে যেতে নারাজ। তাদের আশঙ্কা, যে কোনও অছিলায় তারা তালিবান শাসকের রোষাণলে পড়তে পারে। আফগানিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ মহিলা মনে করছে, আগামীদিনে তাদের আরও কঠোর বিধিনিষেধের ঘেরাটোপে ফেলে দেবে তালিবান সরকার।

ইতোমধ্যে সে দেশে দেখা দিয়েছে আর্থিক সংকট। আন্তর্জাতিকমহলের কাছে তালিবান সরকার আর্থিক সাহায্য চেয়েছে। যদিও তাদের সে আর্জিতে সাড়া দিতে নারাজ আন্তর্জাতিকমহল। তাদের আশঙ্কা, টাকা পেলে তালিবান সরকার অন্য খাতে ব্যয় করবে। কিনবে অস্ত্র। তাই, তাদের কোনও অবস্থাতেই আর্থিক সাহায্য করা যাবে না। একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সম্প্রতি একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে, সেই রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, সে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ স্বেচ্ছাসেবি সংস্থা রীতিমতো আর্থিক সংকটে ভুগছে। খাবার কেনার মতো অর্থ তাদের কাছে নেই।