নিজস্ব প্রতিনিধি: রাত পোহালেই রবিবার বন্দর নগরী নারায়ণগঞ্জে পুর ভোট। নতুন মেয়র ও কাউন্সিলরদের নির্বাচিত করার জন্য ভোটের লাইনে দাঁড়াবেন শহরবাসী। পুরভোট ঘিরে গত কয়েকদিন ধরেই উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে উঠেছে। রবিবাসরীয় ভোটে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য শহরজুড়ে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। ভোটারদের নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ও জেলার পুলিশ সুপার। যদিও কত শতাংশ মানুষ নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেন, তা দেখতে মুখিয়ে রয়েছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

এবারের বন্দর নগরীর পুর ভোটে মেয়র পদে নিজের ভাগ্য পরীক্ষায় নেমেছেন বিদায়ী মেয়র সহ সাত জন। ২৭টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে লড়াইতে নেমেছেন ১৮২ জন প্রার্থী। ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৭ হাজার ৩৬১ জন। ১৯২টি ভোটকেন্দ্রে ভোট নেওয়া হবে। শাসকদল আওয়ামী লীগের হয়ে এবারও মেয়র পদের লড়াইতে নেমেছেন বিদায়ী মেয়র সেলিনা  হায়া‍ৎ আইভী। তাঁর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি নেতা তৈমূর আলম খন্দকার।

শাসকদল আওয়ালী লীগের প্রার্থী সামান্য এগিয়ে থাকলেও বিএনপি প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার জোর লড়াই দেবেন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। কেননা, নারায়ণগঞ্জের গডফাদার হিসেবে পরিচিত শামীম ওসমান আওয়ামী লীগের সাংসদ হলেও দলের মেয়র পদপ্রার্থী আইভি’র সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক শত্রুতা সর্বজনবিদিত।

ভোট কতটা নিরপেক্ষ ও অবৈধ হবে তা নিয়ে শনিবার সন্দেহপ্রকাশ করেছেন বিএনপি নেতা তথা নির্দল প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার। তিনি অভিযোগ করেছেন, ভোটে বহিরাগতদের নিয়ে এসে ভোট লুট করাবে শাসকদল। যদিও আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতৃত্ব সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন।

এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম জানিয়েছেন, ‘অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটের জন্য যাবতীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়ে যেমন বন্দর নগরীকে ঘিরে ফেলা হচ্ছে, তেমনই জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া কাউকে ভোটের দিন  নারায়ণগঞ্জে ঢুকতে দেওয়া হবে না।’