নিজস্ব প্রতিনিধি : প্রতি বছর ১২ জানুয়ারি স্বামী বিবেকানন্দ জন্মদিন পালিত হয়। বিবেকানন্দের জন্মদিনটি দেশে জাতীয় যুব দিবস হিসেবে পালিত হয়। আধ্যাত্মিক পথ অবলম্বন করার পর তিনি স্বামী বিবেকানন্দ নামে পরিচিত হন। অল্প বয়স থেকেই স্বামী বিবেকানন্দ আধ্যাত্মিকতার প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। পড়াশোনায় মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও অল্প বয়সে তিনি জাগতিক আসক্তি ত্যাগ করেন এবং সন্ন্যাসী হন। স্বামীজির জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনা গুলোর মধ্যে অন্যতম হল অহংকারী সাধুর দর্প ভেঙে দেওয়া।
একদিন স্বামী বিবেকানন্দ নদী পাড়ে দাঁড়িয়ে নৌকোর জন্য অপেক্ষা করতে লাগলেন। কেননা তাঁকে বিশাল নদী পেরোতে হবে। তিনি দেখেন যে নৌকা ইতিমধ্যেই পাড় ছেড়ে গিয়েছে। সুতরাং তাঁকে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে এইভেবে নরম ঘাসের মেঝেতেই বসে পড়লেন তিনি। ওই পথ দিয়ে এক নামকরা সাধু যাচ্ছিল।তিনি বিবেকানন্দকে দেখে থমকে দাঁড়িয়ে গেলেন।
তিনি স্বামীজীকে এভাবে নদীর পাড়ে একা বসে থাকতে দেখে তাঁর কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে বৎস, তুমি এখানে বসে আছো কেন…?’ স্বামীজি উত্তর দিলেন, ‘আমি নৌকার জন্য অপেক্ষা করছি..’ তক্ষনাৎ সাধু জিজ্ঞেস করল, তোমার নাম কি ? স্বামীজি উত্তর দিলেন, ‘আমি বিবেকানন্দ..’ স্বামীজির নাম শুনে হো হো করে হেসে উঠলেন সাধু। খানিকটা বিদ্রুপের সুরে সাধু উত্তর দিল, ‘ওহ..!!সুতরাং আপনি বিখ্যাত বিবেকানন্দ, যিনি মনে করেন যে বিদেশী ভাষায় কথা বললেই তিনি একজন মহান ঋষি হওয়া যায়।’
এই বিদ্রুপের কোন উত্তর না দিয়ে চুপচাপ বসে রইলেন স্বামীজি। তারপর সাধু নদীর স্রোতের উপর দিয়ে কয়েক মিটার হেঁটে তার অলৌকিক ক্ষমতা দেখালেন।তারপর স্বামীজিকে পুনরায় বললেন, ‘আপনি কি আমার মতো নদী পার হতে পারবেন ? ’স্বামীজি মৃদু সুরে উত্তর দিল ‘না’….
সাধু স্বামীজিকে খোঁচানোর জন্য গর্ব করে বললেন, ‘এটা সহজ কাজ নয়। নদীর জলের উপর দিয়ে হাঁটার বিদ্যা বহু তপস্যা করে রপ্ত করতে হয়। আমি ২৫ বছর ধরে কঠোর তপস্যা করেছি। তারপর এই অলৌকিক শক্তি পেয়েছি।’ এই দেখে স্বামীজি সাধুকে বললেন, ‘আপনি এমন কিছু শিখতে ২৫ বছর নষ্ট করেছেন।এতে আমি অবাক হচ্ছি।কেননা যে বিদ্যা অর্জন করতে ২৫ বছর সময় নষ্ট করেছেন, এই কাজ একটা নৌকা ৫ মিনিটে করে দিতে পারে।আপনি এই পঁচিশটা বছর নিঃস্ব দরিদ্রদের সেবায় উৎসর্গ করতে পারতেন।কিন্তু তা করেন নি।বরং আপনি ৫ মিনিট সময় বাঁচাতে ২৫ বছর নষ্ট করেছেন, এটা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।’