নিজস্ব প্রতিনিধি: আগে সীমান্ত দিয়ে চোরাপথে ভারত থেকে যেত গরু। আর তার বদলে আসত সোনার বিস্কুট। তবে এখন গরু পাচার বন্ধ হলেও বন্ধ হয়নি সোনা পাচার। বরং আরও বেড়েছে সেই সোনা পাচার। এবার সোনা পাচার করতে ‘শরীর ভাড়া’ কেই মূল হাতিয়ার করে নিয়েছেন পাচারকারীরা।  তবে এই ‘শরীর ভাড়া’-তেও দর বেড়েছে দশগুন।

‘শরীর ভাড়া’ দেওয়ার এই কৌশল বেশ কয়েক বছর ধরেই চলছে। এখন এই পাচারকারীদের তালিকায় নাম লিখিয়েছে মহিলারাও। যারা মলদ্বারে লুকিয়ে সোনা পাচার করে, তারা চোরাপথে সীমান্ত টপকায় না। পাসপোর্ট ও ভিসা নিয়ে বৈধ উপায়েই ভারতে ঢোকে তারা। মলদ্বারে সোনার বিস্কুট ভরলে বাইরে থেকে বোঝার কোনও উপায় নেই। সিকিউরিটি চেকিংয়ে একটু অসতর্ক হলেই পাচারকারীরা সফল হয়ে যাবে। তাই বিএসএফ সীমান্তে কড়া নজরদারির পাশাপাশি যাত্রী পারাপারের প্রতিটি স্থলবন্দরে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে চেকিং করে। জানা গিয়েছে, আগে ৪-৫ হাজার টাকার বিনিময়েই ৮-১০টি বিস্কুট পাচার করা হতো। কিন্তু, সীমান্তে এখন কড়া নজরদারি চালাচ্ছে বিএসএফ। তাই ‘শরীর ভাড়া’র দর বেড়েছে প্রায় ১০ গুণ! গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, ৪০-৫০ হাজারের নীচে কেউ এই কাজ করছে না এখন। 

প্রসঙ্গত, গত ২৬ নভেম্বর পেট্রাপোল সীমান্তে এক সন্দেহজনক বাংলাদেশিকে আটক করেছিল বিএসএফ। কারণ, তার পেটে মেটাল ডিটেক্টর ঠেকাতেই বিপ বিপ শব্দে লাল আলো জ্বলে উঠেছিল। পরে জেরায় সে স্বীকার করে, মলদ্বারে সোনার বিস্কুট পাচার করছিল সে। তার শরীর থেকে চারটি সোনার বিস্কুট পাওয়া যায়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গোয়েন্দারা জানতে পারেন, চারটি বিস্কুটের জন্য সে ৪০ হাজার টাকা কমিশন নিয়েছিল। অথচ, আগে ৪টি সোনার বিস্কুটের জন্য দু’হাজারের বেশি জুটত না। তবে এবার কমিশন জোটার আগেই শ্রীঘরে ঠাঁই হয়েছে তার। বর্তমানে অশান্ত পরিস্থিতিতে সীমান্তে আরও কড়া নজরদারি চালাচ্ছে বিএসএফ। তাই ‘হ্যান্ড হেল্ড মেটাল ডিটেক্টর’ যন্ত্রের সাহায্যে বিপ বিপ শব্দে লাল আলো জ্বলে উঠছে কি না, সেই দিকে কড়া প্রহরায় রয়েছেন বিএসএফ আধিকারিকরা।