আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সদ্যই সিরিয়ায় পতন হয়েছে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের। সিরিয়া এখন বিদ্রোহীদের দখলে। এদিকে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সেদনায়া কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন হাজার হাজার বন্দি। এখন কারাগারটির সুড়ঙ্গে সুড়ঙ্গে বন্দিদের উদ্ধারকার্য চালিয়ে যাচ্ছে দেশটির নাগরিক সুরক্ষা গোষ্ঠী হোয়াইট হেলমেটস। ইতিমধ্যেই ১৫টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

আঞ্চলিকভাবে কুখ্যাত এই সেদনায়া কারাগার ‘মানব কসাইখানা’ নামে পরিচিত। যেখানে বন্দিদের ওপর করা হতো অমানবিক অত্যাচার। মুক্তি পাওয়া অনেকেই ছিলেন কঙ্কালসার। কোনোরকম নিয়মের বাইরে গেলেই দেওয়া হতো ইলেকট্রিক শক। এমনকি নিষিদ্ধ ছিল কারাগারের ভেতর শব্দ করা। বন্ধ ছিল বাইরের জগতের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ। মাত্র কয়েক মিটার আয়তনের ছোট ঘরে একসঙ্গে রাখা হতো অনেক বন্দিকে। ছিল না খাবার ও ঘুমোনোর পর্যাপ্ত জায়গা।

বিদ্রোহীদের হাতে দামেস্কের পতনের পর সেদনায়া কারাগার খুলে বহু বন্দিকেই মুক্তি দেওয়া হয়। আসাদের দেশ ত্যাগের পরই নিখোঁজ স্বজনদের খুজতে অনেকেই ভিড় করেন কারাগারটির সামনে। উদ্ধারকর্মীদের অনুমান, যাদের মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছে তাঁদের উপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল।

আরও পড়ুন : সিরিয়ায় মাটিতে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হামলা চালাল ইজরায়েল

উল্লেখ্য, লন্ডন ভিত্তিক এক মানবাধিকার সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরের শুরু থেকে সিরিয়ার সরকারি কারাগারে নির্যাতন ও চিকিৎসা পরিষেবা বন্ধ থাকায় ৬৯ জন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের খাবার ও চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হত না। তাঁদের শরীরও ভেঙে পড়েছিল। এভাবেই তাঁরা মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েছিল।