আন্তর্জাতিক ডেস্ক :  অপ্রতিরোধ্য গতিতে সিরিয়ার বিদ্রোহীরা রাজধানী দামেস্কে প্রবেশ করলেন। এর মধ্যেই দেশটির প্রেসিসেন্ট আল-আসাদ রাজধানী ছেড়ে পালিয়েছেন। যা নিয়ে তুমুল উত্তেজনা শুরু হয়েছে দেশটিতে। এর আগে দেশটির বিদ্রোহীরা হোমসের দখল নেয়। এটি ছিল সিরিয়ার তৃতীয় বৃহৎ নগরী।  এরপরই তাঁরা দামেস্কে প্রবেশ করার কথা জানায়। এরপরই প্রেসিডেন্ট বাসার আল আসাদ ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে দামেস্ক থেকে পালিয়েছেন।

সম্প্রতি অধিকার নিয়ে উত্তাল হয়ে উঠেছে সিরিয়া। বিদ্রোহীরা হঠাৎ করেই দেশটির দ্বিতীয় বড় শহর আলেপ্পো দখলের অভিযান শুরু করে। তাদের দ্রুত গতির অভিযান দেশটির প্রেসিডেন্ট বাসার আল-আসাদ, তাঁর মিত্র এবং বাকি বিশ্বকে অবাক করে দিয়েছে। কীভাবে দ্রুত গতিতে তাঁরা মাত্র ১২ দিনে কীভাবে দামেস্ক পৌঁছে গেছে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

বিদ্রোহিরা একজোট হয়ে সিরিয়া অভিযান শুরু করে। কয়েক দিনের মধ্যেই আলেপ্পো দখল করে করে নেয় বিদ্রোহীরা। তবে সেখানে কুর্দি অধ্যুষিত এলাকাগুলোর দখল কুর্দি যোদ্ধাদের হাতেই থেকে যায়। এখও পর্যন্ত বিদ্রোহীদের অভিযান চলছে।

এই সংঘাত শুরুর আগে থেকেই দেশটিতে বেকারত্বের উচ্চ হার, দুর্নীতি এবং প্রেসিডেন্ট বাসারের শাসনে রাজনৈতিক স্বাধীনতা খর্ব হওয়ার মতো বিষয় অভিযোগ তুলে আসছিল বিদ্রোহীরা। এসব নিয়ে নাগরিকদের মধ্যে অস্থিরতা ছিল। বাশার ২০০০ সালে তার বাবা হাফেজ আল-আসাদের মৃত্যুর পর ক্ষমতায় আসেন। ২০১১ সালের মার্চ মাসে প্রতিবেশী সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের দারা শহরে গণতন্ত্রের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। সিরিয়ার সরকার বিক্ষোভ ঠেকাতে দমন-পীড়ন শুরু করলে প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবি ওঠে। বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে দমন অভিযান আরও তীব্র হয়ে ওঠে।