নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: শেখ হাসিনা জমানার অবসানের পরে ১০০ দিন পার করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। ১০০ দিনে ‘নেই তো কাজ, খই ভাজ’ এর রাস্তায় হেঁটে প্রয়োজনীয় কাজ না করে অপ্রয়োজনীয় কাজের দিকে ঝাঁপিয়েছে মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা করেছে। আর তাতেই চটে লাল বিএনপি-সহ দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলি। অবিলম্বে ভোটের দাবিতে ফের রাজপথে নামারও হুমকি দিয়েছে। আর রাজনৈতিক দলগুলির ওই চাপের মুখেই তড়িঘড়ি ভোট নিয়ে বড়সড় ঘোষণা করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস।

বাংলাদেশের অন্যতম ইংরেজি সংবাদপত্র ‘ডেইলি স্টার’ এর সম্পাদক মাহফুজ আনমকে দেওয়া সাক্ষা‍ৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ‘আমরা সমান্তরালভাবে দুটো রাস্তায় চলছি। সমান দৃষ্টিভঙ্গি, সমান প্রচেষ্টা দুটোর পেছনেই থাকবে—একটি হল নির্বাচন, অপরটি সংস্কার। দু-একদিনের মধ্যেই নির্বাচন কমিশন ঘোষণা হয়ে যাবে। কমিশন তার মতো চলবে। সেটা তো আমার নিয়ন্ত্রণে নেই। সেখানে যা যা দরকার সেটা হবে। সংস্কার যত দ্রুত হবে, নির্বাচনও তত দ্রুত হবে। আর  সংস্কারের আগেই সবাই যদি বলে নির্বাচন দিয়ে দেন, দিয়ে দেব। আমরা কে এটাকে বাধা দেওয়ার? যদি রাজনৈতিক দলগুলো বলে যে তারা সংস্কার চায় না, তাহলে এখনই নির্বাচন দিয়ে দেব।’

ইতিমধ্যেই রাষ্ট্র সংস্কারের নামে নিজের মোসাহেব ও জো-হুজুরদের বিভিন্ন কমিশনের মাথায় বসিয়ে দিয়েছেন মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাদের পক্ষে জনমত তৈরি করা এবং রাজাকারদের গণধর্ষণ-গণহত্যাকে আড়াল করার হোতা মার্কিন নাগরিক আলী রিয়াজকে সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান পদে বসিয়েছেন। আর তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে, যিনি নিজেই স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক নন, তিনি কীভাবে সংবিধান সংস্কার নিয়ে মতামত দেবেন? সংবিধান সংস্কারের নামে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসিদ্ধি করবেন না তো?তবে অন্তর্বর্তী সরকারের জুলাইয়ের আগে যে ভোট করানোর কোনও ইচ্ছাই নেই, তাও খোলসা করে দিয়েছেন ইউনূস।