নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: শেখ হাসিনার জমানার অবসানের পরেই বাংলাদেশের শাসন ক্ষমতায় আসীন হয়েছে সেনাবাহিনীর মদতপুষ্ঠ মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার। বিএনপি-সহ বেশ কয়েকটি বিরোধী দল আগামী ৬ মাসের মধ্যে দেশে সাধারণ ভোট করানোর দাবিতে সরব হয়েছে। আর সেই দাবির মধ্যেই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান। এক আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষা‍ৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ‘দেশ সংস্কারের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে সময় দেওয়া হবে। ১৮ মাসের মধ্যে নির্বাচন করা হবে।’ অর্থা‍ৎ ২০২৬ সালের প্রথম দিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করানো হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সেনাপ্রধান। ইতিমধ্যেই ওয়াকার-উজ-জামানের সাক্ষা‍ৎকার নিয়ে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

গত বছর ডিসেম্বরে বাংলাদেশে শেষ বারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই নির্বাচনে বিপুল ভোটে জিতে ক্ষমতায় ফেরেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। কিন্তু গত ৫ অগস্ট সেনা বিদ্রোহের মুখে দেশ ছেড়ে চলে যান তিনি। পরে ৮ অগস্ট জাতীয় সংসদ ভেঙে দেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে অবিলম্বে নির্বাচন করানোর দাবি জানায় বিএনপি-সহ বিভিন্ন দল। যদিও জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে উচ্চবাচ্য করছে না ইউনূসের সরকার। ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের মতিগতি নিয়ে সন্দেহ দানা বেঁধেছে। তার মধ্যেই ভোট করানো নিয়ে মুখ খুললেন সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষা‍ৎকারে তিনি বলেছেন, ‘মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার যাতে সংস্কার চালিয়ে যেতে পারে, তার জন্য সমর্থন জানিয়ে যাবে সেনাবাহিনী। দেশের বিচার বিভাগ, পুলিশ ও প্রশাসনের সংস্কার সম্পূর্ণ হওয়ার পরেই সাধারণ নির্বাচন করা হবে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় উত্তরণের জন্য এক থেকে দেড় বছরের প্রয়োজন। দেশের সব রাজনৈতিক দলকে অন্তর্বর্তী সরকারকে ওই সময় দিতে হবে। ১৮ মাসের মধ্যে যাতে দেশে অবাধ নির্বাচনের পথ প্রশস্ত হয়, তা দেখা হবে।’ তবে সেনাপ্রধানের এমন সাক্ষা‍ৎকারে ভাল মনে মেনে নিতে পারছেন না বিএনপি-সহ বিরোধী দলের নেতারা। তারা মনে করছেন, ওয়াকার-উজ-জামান সেনা সদর দফতরে বসে রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে কথা বলে শিষ্টাচার ভেঙেছেন।