আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মিশরের মাটিতে পা রাখতে চলেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার জন্যই মিসর সফরে যাচ্ছেন তিনি। এই সফরে বন্দি মুক্তি নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে চলেছে মিসরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে।

গত কয়েক মাস ধরে মধ্যস্থাকারী দেশগুলি গাজায় যুদ্ধবিরতির জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন। যুদ্ধবিরতির শর্তে প্রথম থেকেই রাজী হয়েছিল। তবে যুদ্ধবিরতিতে আপত্তি নেই ইজরায়েলের অথচ কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় নি। এদিকে গাজায় একটানা হামলা চালাচ্ছে ইজরায়েল। গাজা এখন ধ্বংসপুরী বলা চলে। ব্লিঙ্কেনের এই মিশর সফরে কিছুটা হলেও আশার আলো দেখা যেতে পারে বলে মনে করছে বিশ্লেষেকরা।

গত কয়েক মাস ধরে ইজরায়েল ও হামাসের মধ্যে একটি চুক্তি সইয়ের লক্ষ্যে কয়েক মাস ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিসর।এই চুক্তির উদ্দেশ্য হল হামাস ও ইজরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধের পাশাপাশি ইজরায়েলি বন্দি ও ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তি দেওয়া। দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাত বন্ধ করে শান্তি ফিরিয়ে আনা।

তবে যুদ্ধবিরতি চুক্তির ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দুটো কারণ।এক হল গাজা ও মিসরের মধ্যকার অসামরিক অঞ্চল ফিলাডেলফি করিডরের নিয়ন্ত্রণ রাখতে চায় ইজরায়েল। অপরটি হলো বন্দি বিনিময়ের রূপরেখা চূড়ান্ত করা। বর্তমানে ফিলাডেলফি করিডর ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর দখলে রয়েছে।

গাজায় যুদ্ধবিরতি চলাকালীন ফিলাডেলফি করিডরে ইজরায়েলি সেনা মোতায়েন রাখা নিয়ে হামাস ও ইজরায়েলের মধ্যে বিবাদ রয়েছে। হামাসের দাবি, যুদ্ধবিরতি চলাকালে সীমান্ত এলাকা থেকে ইজরায়েলি সেনাদের সরিয়ে নিতে হবে। অন্যদিকে তা মানতে নারাজ ইজরায়েল। এখনও পর্যন্ত সেই সীমান্ত থেকে ইজরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করে নি ইজরায়েল।

এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, সব বন্দিদের মুক্তি দিতে হবে। গাজার জনগণের ভোগন্তি কমাতে হবে ও বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে কথা বার্তা বলবেন ব্লিঙ্কেন।নতুন করে ব্লিঙ্কেনের মিশর সফরে কিছুটা হলেও যুদ্ধ বিরতির পর্যায় আরও এক ধাপ এগোতে পারে বলে মনে করছে বিশ্লেষকরা।