নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: পঞ্চম দফার ভোটের আগেই বড়সড় অস্বস্তিতে পড়লেন বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ শাখার সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ‘ভিত্তিহীন’ অভিযোগ তুলে বিজ্ঞাপন দেওয়ায় বিজেপির রাজ্য সভাপতিকে শনিবার শোকজ করেছে নির্বাচন কমিশন। ওই শোকজের জবাব দেওয়ার জন্য বালুরঘাটের বিদায়ী সাংসদকে ৭২ ঘন্টা সময় দেওয়া হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার মধ্যে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জবাবে সন্তুষ্ট না হলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও কমিশনের তরফে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

লোকসভার ভোট উপলক্ষে তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেছিল বঙ্গ বিজেপি। ওই বিজ্ঞাপনে কয়লা ও গরু পাচারের সঙ্গে বাংলার শাসকদল জড়িত বলে অভিযোগ তোলা হয়। এমনকী মনরেগা প্রকল্পে ১ কোটি ৩০ লক্ষ ভুয়ো জব কার্ড রয়েছে বলেও দাবি করা হয়। সেই সঙ্গে আবাস যোজনাতেও দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয় তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে। বঙ্গ বিজেপির ওই বিজ্ঞাপন নিয়ে গত ৫ মে নির্বাচন কমিশনে নালিশ জানায় তৃণমূল নেতৃত্ব। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক আরিজ আফতাবকে চিঠি দিয়ে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার আর্জি জানানো হয় ঘাসফুল শিবিরের তরফে।  

তৃণমূল কংগ্রেসের কাছ থেকে নালিশ পেয়ে বেশ কয়েকদিন নির্বিকল্প সমাধিতে থাকার পরে নড়েচড়ে বসেছে নির্বাচন কমিশন। এদিন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারকে ওই বিজ্ঞাপনের জন্য কারণ দর্শানোর নোটিশ ধরানো হয়েছে। কমিশনের সচিব রাকেশ কুমারের স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘কেন দলের দেওয়া ওই বিজ্ঞাপনকে নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের আওতায় ফেলা হবে না, তার কারণ ব্যাখ্যা করুন।’ যদিও সুকান্ত মজুমদারকে নির্বাচন কমিশনের শোকজের সিদ্ধান্তে খুব একটা খুশি নয় তৃণমূল কংগ্রেস। দলের তরফে বলা হয়েছে, ৫ মে নালিশ জানানোর দুই সপ্তাহের মাথায় ব্যবস্থা নেওয়া হল। যে ক্ষতি হওয়ার তা হয়ে গিয়েছে। এখন ব্যবস্থা নিয়ে কী হবে? সবটাই লোক দেখানো। বিজেপি’র স্তাবকতা করতে গিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমার শিরদাঁড়া সোজা রাখতে পারছেন না।