নিজস্ব প্রতিনিধি, মস্কো: জেলের অন্দরেই রহস্যজনকভাবেই নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কট্টর সমালোচক হিসাবে পরিচিত অ্যালেক্সি নাভালনি। তাঁর আইনজীবীরা দাবি করেছেন, ‘গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার পরে গত ৬ দিন ধরে কোনও খোঁজ নেই নাভালনির।জেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বার বার যোগাযোগ করেও কোনও লাভ হয়নি।’ নাভালনির রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়া নিয়ে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। যদিও ক্রেমলিনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কট্টর সমর্থক হিসাবেই পরিচিত অ্যালেক্সি নাভালনি। তাঁর মুখ বন্ধ করতে একাধিকবার হত্যার চেষ্টা চালিয়েছিল রুশ গুপ্তচর সংস্থা কেজিবি’র এজেন্টরা। ২০২০ সালের ২০ অগস্ট সাইবেরিয়ার টমস্ক থেকে মস্কোয় যাওয়ার পথে বিমানেই অসুস্থ হয়ে পড়েন নাভালনি। তাঁকে বহনকারী বিমানটি সাইবেরিয়ার ওমস্কে জরুরি অবতরণ করে। সেখানকার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয় তাঁকে। তিনি কোমায় চলে গিয়েছিলেন। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য জার্মানির বার্লিনে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি ধীরে ধীরে সেরে ওঠেন। জার্মানির চিকিৎসকেরা জানান, নাভালনিকে নার্ভ এজেন্ট (বিষ) প্রয়োগ করা হয়েছে। যদিও ওই অভিযোগ অস্বীকার করে পুতিন প্রশাসন।

ক্রেমলিনের হুঁশিয়ারি অগ্রাহ্য করে ২০২১ সালের ১৭ জানুয়ারি রাশিয়ায় ফিরে আসেন নাভালনি। বিমানবন্দরেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। উগ্রপন্থামূলক কাজকর্মে অর্থায়ন এবং উগ্রপন্থী সংগঠন প্রতিষ্ঠার অপরাধে নাভালনিকে গত অগস্টে ১৯ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সাজা ঘোষণার পরে পেনাল কলোনিতে রাখা হয় তাঁকে। রাশিয়ায় পেনাল কলোনিগুলি বন্দিদের উপরে মানসিক নির্যাতন চালানোর বিষয়ে বিশেষভাবে পরিচিত। নাভালনিকে সর্বশেষ আইকে-৬ পেনাল কলোনিতে রাখা হয়েছিল। কিন্তু জেলের মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। গত শুক্রবার এবং শনিবার নাভালনির খোঁজ নিতে যান তাঁর আইনজীবীরা। কিন্তু খোঁজ মেলেনি। পেনাল কলোনি থেকে সরিয়ে অন্য কোনও অজ্ঞাতস্থানে নাভালনিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবীরা।